Tips & Tricks-টিপস & ট্রিকস

ওয়েবসাইটের জন্য গুগল এডসেন্স(Google Adsense) পাওয়ার ১০ টি সহজ উপায়

ইন্টারনেটে যতগুলো অনলাইন advertisement company রয়েছে তার মধ্যে Google adsense সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনি সংস্থা। কারণ Google adsense এর বিজ্ঞাপনের উচ্চ মূল্যের ক্লিক রেট এবং আরও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। যা সব ধরনের ব্লগার ও আর্টিল রাইটার তাদের ব্লগে এডসেন্স ব্যবহার করে অনলাইনে ইনকাম করতে পারে।আপনার যদি খুব কম ট্রাফিক বা কম ভিসিটর্স ও থাকে তারপরও adsense আপনাকে সবচেয়ে বেশি টাকা কামানোর সুযোগ দিবে।

তবে এর জন্য আপনাকে অবশ্যই Google Adsense পেতে হবে।কিন্তু আমরা অনেকেই এডসেন্স এপ্রুভালের নিয়ম না মেনেই এপলাই করে থাকি।যার কারণে আমরা গুগল এডসেন্স পাই না।
অথচ,সামান্য কিছু টিপস অনুসরণ করে ধৈর্য ধারণ করে চেষ্টা করলে খুব সহজে অল্প দিনে মধ্যেই আপনি গুগল এডসেন্স পেতে
পারেন।

তাই, এডসেন্সের জন্য apply করার আগে আপনাকে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিয়মগুলো মেনে তারপর Apply করলে ১ সপ্তাহ বা তারও কম সময়ের মধ্যে adsense আপনার নতুন ওয়েবসাইট সহজে এপ্রুভ করে দিবে।তাই আর দেরি না করে এডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার জন্য সহজ ৭ টি নিয়ম এখনই পড়ে ফেলুন।

১.ডোমেইন:

আমরা প্রত্যেকেই জানি,এডসেন্স পাওয়ার জন্য ডোমেইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এই ডোমেইন এর মধ্যে কিছু শ্রেনিবিভাগ রয়েছে। কিছু ডোমেইন রয়েছে যেগুলা ফ্রি ডোমেইন যেমন ( .tk , .ga , .ml , .gq ) ইত্যাদি।এই ডোমেইনগুলো দিয়ে টাকা ইনকাম করার চেষ্টা না করাই ভালো কারণ এগুলো ব্যবহার করে গুগল এডসেন্স পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

তাই,সাইটের জন্য টপ লেভেল ডোমেইন নেওয়ার চেষ্টা করবেন।যেমন: .com, .net, .info ইত্যাদি ডোমেইনগুলো। তবে এর জন্য আপনাকে প্রথমে কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে হবে।

২. প্রয়োজনীয় পেজ তৈরি করুন

ওয়েবসাইটের approve পাওয়ার জন্য কিছু পেজ (page) থাকা আবশ্যক। যেমন- About Us, Contact Us, Disclaimer Privacy Policy. এই পেজ গুলো যে সাইটে বানানো থাকে সে সাইটটি দেখতে অনেক professional মনে হয়। যার কারণে এডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যায়।

৩. ব্লগের বা ওয়েবসাইটের বয়স:

এডসেন্স না পাওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো ব্লগের/ওয়েবসাইটের বয়স কম হওয়া। এডসেন্স পাওয়ার জন্য Apply করার আগে আপনার ডোমেইনে এর বয়স কমপক্ষে ২ বা ৩ মাস হতে হবে। তবে ডোমেইনের বয়স ৬ মাস হওয়ার পর এডসেন্স এর জন্য আবেদন করলে সবচেয়ে ভালো হয়। কারণ গুগল adsense সব সময় বিশ্বাসযোগ্য সাইটে এপরুভ দিতে চায়। তাই আপনার সাইটের বয়স যতো বেশি হবে আপনার অ্যাডসেন্স পাওয়ার সম্ভাবনাও ততো বেশি।

৪. বিজ্ঞাপন

adsense এর জন্য Apply করার পূর্বে কোন ধরনের PPC বিজ্ঞাপন ব্যবহার করবেন না।যদি ইতোমধ্যে ব্যাবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আবেদন করার পূর্বে তা সরিয়ে নিবেন।
অন্যথায় গুগল আপনার ওয়েবসাইটে/ব্লগে AdSense অনুমোদন করবে না। কারণ Google AdSense তাদের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি অন্য কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখাতে খুব বেশি পছন্দ করে না। তবে এডসেন্স অনুমোদন এর পরে অন্যান্য বিজ্ঞাপন ব্যবহার করতে পারবেন।

৫. পর্যাপ্ত আর্টিকেল

একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন ব্লগে বা ওয়েবসাইটে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আর্টিকেল। আপনার ব্লগে বা সাইটে যত বেশি ভালমানের আর্টিকেল থাকবে তত বেশি ভিজিটর পাবেন।
যদিও এতে লিখতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। খেয়াল রাখবেন ব্লগে লেখা প্রত্যেকটি আর্টিকেল যেন মিনিমাম ১০০০ থেকে ১৫০০ শব্দের মধ্যে হয়। ১০০০ – ১৫০০ আর্টিকেল থাকলে, Google AdSense আপনার ব্লগকে বা সাইটকে একটি high quality ব্লগ বা ওয়েবসাইট ভাববে।

৬. ডিজাইন

ওয়েবসাইটের থিম অবশ্যই দেখতে পরিষ্কার হতে হবে। পাঠকরা যাতে সহজে যে কোন ধরনের ডিভাইস থেকে ব্লগের বা সাইটের আর্টিকেল সহজে পড়তে পারে। পাশাপাশি ব্লগের loading speed ভালো হতে হবে। Slow গতির ব্লগে খুব বেশি ভিজিটর পাবেন না।তাই ব্লগের বা ওয়েবসাইটের ডিজাইন অবশ্যই Responsive, clean এবং Adsense Ad ব্যবহারের উপযোগী হতে হবে।

৭. ওয়েবসাইটের কনটেন্ট

ওয়েবসাইটে সব সময় ভালমানের ইউনিক কনটেন্ট শেয়ার করবেন। কারণ ওয়েবসাইটে ভিজিটর পাওয়ার জন্য সহজ ও প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ভালমানের কনটেন্ট। তবে, আপনার কনটেন্ট অবশ্যই কপিরাইট মুক্ত হতে হবে।আপনি যত পপুলার ওয়েবসাইটই বানান না কেন, আপনার কনটেন্ট যদি হয় কপিরাইট যুক্ত তাহলে এই সব সাইটে দিয়ে ইনকাম করতে পারবেন না। কারো কনসেপ্ট কপি করতে পারেন তবে সেটা যাতে পুরোপুরি মিল না থাকে।

৮. সার্চ ইঞ্জিন হতে ভিজিটর

যদিও Adsense এর ক্ষেত্রে ভিজিটর তেমন একটা প্রভাব ফেলে না। তারপরও ওয়েবসাইটে যদি সার্চ ইঞ্জিন হতে ভিজিটর আসে তাহলে গুগল এডসেন্স পাওয়া আরো বেশি সহজ হয়ে যায়। কারণ গুগল সার্চ ইঞ্জিন হতে ভিজিটর আশা ব্লগকে বেশী পছন্দ করে। ব্লগে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০০/৪০০ ইউনিক ভিজিটর থাকলে গুগল এডসেন্স পাওয়া অনেকটা সহজ হয়।

৯. এডসেন্স পলিসি(Policy) অনুসরণ

AdSense এর অনেকগুলো নিয়মনীতি রয়েছে। অনেক ব্লগার আছেন যারা AdSense Policy না পড়েই AdSense পাওয়ার জন্য আবেদন করে থাকেন।Apply করার আগে অবশ্যই AdSense Policy পড়ে নিবেন।Policy পড়ার পর যদি আপনার মনে হয় আপনার ব্লগটি AdSense এর সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই হয়েছে তাহলে AdSense এর জন্য Apply করবেন।

১০. অনুপযুক্ত কন্টেন্ট

কপিরাইট মুক্ত সাইট তৈরি করেও আপনি গুগল এডসেন্স না পেতে পারেন। কারণ এমন কিছু কনটেন্ট রয়েছে যেগুলোর ব্যবহার গুগল AdSense Policy সমর্থন করেনা। এগুলো হলো অনুপযুক্ত কন্টেন্ট। যেগুলো ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়। নিচে এর একটা লিস্ট দেওয়া হলো:

  • যুদ্ধ/ মারাত্মক অস্ত্রের বিজ্ঞাপন
  • হ্যাকিং সম্পর্কিত টিপস
  • থার্ড পার্টি ভিডিও শেয়ারিং
  • নেশা জাতীয় দ্রব্যের প্রচার বা প্রসার
  • গুগল প্লে-স্টোর/অ্যাপ স্টোর থিকে সরিয়ে নেওয়া Apps এর রিভিও

অনুপযুক্ত এই কন্টেন্টগুলো ব্যাবহার করে যত ট্রাফিক/ভিজিটর পান না কেন কখনোই Google AdSense পাবেন না।

শেষ কথা

উপরে আলোচিত বিষয়গুলো যদি মাথায় রেখে গুগল এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করেন তাহলে খুব সহজেই অল্প কিছু দিনের মধ্যে Adsense পেয়ে যাবেন। তো,আশা করি এতক্ষণে বুঝে গেছেন ওয়েবসাইট এর জন্য গুগল এডসেন্স পাওয়ার জন্য কি করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button