Book Reviews-বই রিভিউ

কমান্ডো রাজিব হোসেন pdf ও বই রিভিউ

বইয়ের নাম

কমান্ডো

লেখক

রাজীব হোসেন

ক্যাটাগরি

পেশাগত স্মৃতিচারণ অভিজ্ঞতা

প্রকাশনী

নালন্দা

দেশ

বাংলাদেশ

 কমান্ডো বই রিভিউ:

মেজর এম আনোয়ার হোসেন রচিতহেল কমান্ডোবইটি পরার পর থেকেই কমান্ডো নিয়ে এরকম একটি বই আশা করছিলাম , এই বইটি সেই আশা পূরণ করেছে নিজে সামরিক বিষয়ে আগ্রহী থাকায় এর সাথে সম্পর্কিত ব্যাপারগুলো সবসময়েই ভাললাগে তবে লেখকের তথাগত অপারেশনাল বর্ণনা বাদ দিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরার প্রয়াস এবং সেই পুরো অভিজ্ঞতাএকই মলাটের ভিতর পাওয়াটা একটি দুর্দান্ত অনুভূতির উদ্রেক করে পাশাপাশি লেখকের মজার স্মৃতিগুলো বইটিকে একমুহূর্তের জন্যও একঘেয়ে হতে দেয় নি আমাদের দেশে সেনাবাহিনী বা সামরিক বাহিনীর ট্রেনিং এবং অন্যান্য বিষয় নিয়েঅনেকেরই জানার আগ্রহ থাকলেও এই ব্যাপারে বই এর সংখ্যা নগণ্যই বলা যায় এই অবস্থায় এরকম একটা বই যেন অমূল্যরত্নের মত সবশেষে বলতে চাই বইটি উপহার দেয়ার জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ এবংবইটি অনুপ্রাণিত করুক আমারমতোই অসংখ্য মানুষকে

মুখবন্ধমেকিং অফ প্যারা কমান্ডোগত তিন বছরের প্রজেক্ট ! শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়াতে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা শুরু পর্ব হিসেবে লেখা পোস্ট তান এক পর্যায়ে টের পেলাম , লেখা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে তখন পুরাতন কমান্ডো সহকর্মী , বন্ধুকিবা পাঠন্দ্রে অনুরোধের পুরোদমে লিখতে শুরু করি এই নামে একটি আলাদা ফেবুক পেইজ খুলি আগের পদ্ধতিতেই কিন্তিআকারে লেখা পাবলিশ তে থাকি বেসামরিক জীবনে নিজের কর্মব্যস্ততা , পড়াশোনা এবং অন্যান্য কার্যক্রন থেকে সময় বেরকরে নিয়ে লেখা ঢালিয়ে যেতে হয়েছে পনেরো বর আগের কমান্ডো ট্রেনিংয়ের অভিজ্ঞতা কিংবা কার্যক্রম স্মরণ করে লিপিবদ্ধপ্রতে হয়েছে সে কারণে প্রায় তিন বর সময়ে লেগে গেল তবে এই প্রজেক্ট শেষ প্রতে পেরে আনি তৃপ্ত বাংলাদেশে কমান্ডোসংক্রান্ত একমাত্র বই মেজর আনোয়ার রচিতহেল কমান্ডো

বইটি লেখা হয়েছিল লেখল্পে পাকিস্তান আর্মি স্পেশাল ফোর্স ( স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপএস এস জি ) এর ট্রেনিং জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশিত ১৯৮৬ সালে হেল কমান্ডোবইটিআমাদের বাংলাদেশের অসংখ্য অঙ্গকে অনুপ্রাণিত করেছে , সেনাবাহিনীতে এবং এর প্যারা কাজে ট্রেনিংয়ে যোগ দেয়ার জন্য তবে স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি , বাংলাদেশ আর্নি কমান্ডারদের নিয়ে কিছু লেখা হয়নি সেই ধারণা থেকে আনি কান্ডেসংক্রান্ত বইটি লেখার তাগিদ বোধ করি এই বই রচনার ক্ষেত্রে যার উপস্থিতি প্রতিটি অধ্যায়ে , সে আমাদের হাসিব

আনারনিলিটারি একাডেমি এবং প্যারা কমান্ডার ট্রেনিংয়ের রন মেইট এই বই লিখতে গিয়ে , প্রতিটি বিষয়ে হাসিবের ইনপুট নিতেহয়েছে ওর স্মৃতিশক্তি আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালো হাসিব না থাকলে , এই বইটি এত সমৃদ্ধ হতো না আর আমারসার্বক্ষণিক সঙ্গী হওয়ার কারণে , সারা বই জুড়েই হাসিরে উপস্থিতি ! আমার কমান্ডো ট্রেনিংয়ের বন্ধু মশিউর , রিফাত এবংজাহিদ অনেক বিষয়ে যথাযথ

আলোকপাত এর জন্যে সাহায্য করেহে ঘটনা সুন্দরভাবে বর্ণনা ব্রার জন্যে , ওদের অবদান এই বইকে আলোকময় করেছে বন্ধুমাসুম , আতিকমেকিং অফ প্যারা কমান্ডো নামের সোশ্যাল মিডিয়া পেইজ ঢালু রাখা এবং কপিরাইট ইস্যু অন্যান্য বিষয়েসবসময় সক্রিয় থেকেছে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ সমরাঙ্গন এবং তার অ্যাডমিন আব্দুলাহ , ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম ( ডেফরেস ) এবং এর অ্যাডমিন হিমেল ওয়াসি , এই বইয়ের প্রচারণার জন্যে অনেক সাহায্য করেছেন

তাঁকে আনার কৃতজ্ঞতা ! এডিটিংএর জন্যে স্নেহের সিদ্দিকুল আবেদিন হামিনের অবদান অনস্বীকার্য ! স্নেহের বান তানজিনা ইয়াসমিন বারংবার এইবইয়ের প্রমোশনাল বিজ্ঞাপন করে দিয়েছেন বইয়ের প্রচ্ছদ তৈরি করে দিয়েছেন শ্রদ্ধেয় কান্ডাে ইমতিয়াজ ইলাহি বাংলাদেশসেনাবাহিনীর লিজেন্ড বর্তমান অঙ্গ প্রজন্মের কাছে প্রেরণার আরেক নান শ্রদ্ধাভাজন অগ্রজ সেলিম আজাদ , আমিনুলসারোয়ার , ইক্তিদার আলম বা অনুজ দ্রাবিড় আলম , সাকি বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা উৎসাহ দিয়ে অনুপ্রাণিত করেহেন প্রিয় পাঠক , ফজলু ভাই , শুরুর থেকেই উৎসাহ যুগিয়েছেন লেখক বন্ধু নেজর দেলোয়ার , বই সম্পর্কে বিভিন্ন নির্দেশনা , প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে পাশে হিল অন্ধকার হতে আলাের পথের যারা সীমাহীন সংগ্রান নুর বন্ধু সানিআম্মা , মেজর শফিক , ক্যাথি ওয়াঢালা , আরফাদুর রহমান , শ্রদ্ধাভাজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ( অব ) তুষার কান্তি ঢাকা , সাইফুল ইসলাম , চৌধুরী আকতার আসিফের মতাে মানুঞ্জে বাড়িয়ে দেওয়া হাত ধরে সামনে এগিয়েছি মহান সৃষ্টিকর্তা তাঁদেরচলার পথকে প্রশস্ত ক্লান্তিহীন করে দিন আমাদের শিশু নুহা , তকি , মকি , অরিত্র  , তাইফ , রহ , তাহা , মরিয়ন , মুসাই , তাহনীক , মোয়ানা , তাইজ , হিয়া সকলে একদিন এই বই পড়বে , আশা রাখি আমার শ্রদ্ধেয় ইনসট্রাক্টর মেজর ইমতিয়াজ , ক্যাপ্টেন ইমরঙ্গ তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য দিয়ে বই রচনায় সাহায্য করেছেন

আনি সম্মানিত আমার গোটা জীবনে এই দুইজনমানুষের প্রভাব অনেক আমি হয়তো বইটি রচনা করেছি মাত্র , কিন্তু এটি বাংলাদেশ আর্মির সকল প্যারা কমান্ডোর গল্প সকল স্পেশাল ফোর্স মেম্বারের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এর কাহিনি ! এই বইটি কেবল একটি পুস্তক নয় , একটি ডকুমেন্ট আমি আশা রাখি , অঙ্গ প্রজন্ম এই বই পড়বে আমাদের প্রাণপ্রিয় সশস্ত্র বাহিনী এবং দেশের প্রয়োজনে তাদের অবদান নিয়েতারা জানতে পারবে আমি চাই , তারা উজ্জীবিত হোক এবং সকল বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাক ! মানুষ হিসেবেআমার জীবন একেবারেই তাৎপর্যহীন আনি এই কাহিনির মধ্য দিয়ে , জীবনের পিঠে খানিকটা আঁচড় কেটে যাওয়ার ইচ্ছাপোষণ করি সকরে ভালো হোক

সামরিক জীবনে যাত্রা হলো শুরু কাপ্তাইয়ের সবুজের মাঝে রাশিয়ান কার্গো বিমান আস্তানাত৩২ এর ন্যাম্প দরজা ( পিছনেরদরজা ) খুলে গেল ! চোখে মুখে একটা হিম বাতাসের ঝাপটা খেলাম সেই সাথে প্যারাসুট নিয়ে বিমানের বেঞ্চিতে বসে থাকাশরীরের ইউনিফর্মে যেন হালকা শিশির ঝললো ! ৩৫০০ ফুট উচ্চতায় মেঘেরা নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করছে চোখ মেলে সামনেআকাশ না দেখে , কেবল চোখে ভাসে মেঘেদের ঝক এত সময় প্যারাসুট পিঠে নিয়ে আমরা সকলে বসে ছিলাম

স্যাম্প ডােরখোলার অর্থই হচ্ছে দাঁড়িয়ে প্রস্তুত হতে হবে , জাম্প দেয়ার জন্য ! সবাই দুরু দুরু বুকে দাঁড়িয়ে , এক হাতে বিমানের আভ্যন্তরীণকর্ডের সাথে হুকে বাঁধা স্ট্যাটিক লাইনের এক প্রান্ত ধরলাম , আরেক হাতে বুকের সাথে সেট করা প্যারাসুট ! সবাইকে বুকে সাহসদেবার জন্যে ইনসট্রাক্টর ক্রমাগত উৎসাহমূলক কথা বলে যাচ্ছেন কিন্তু তাতে বেসিক জমের অজা ভয় খুব একটা কাটছে না হাই অল্টিচিউডের এই হিমের মাঝেও , মাথার হেলমেটের প্রান্তে কপাল বেয়ে ঘাম ঝড়ে পড়ছে ! ড্রপজোনের উপরে মক ফ্লাই করেগেল আমাদের এয়ারক্র্যাফট ! ইনস্ট্রাক্ট আমাদের সকলকে পূর্ব নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী দাঁড় করিয়ে দিলেন ! বিমান চলছে ইনসট্রাক্টর , বিমানের পাইলটের সিগন্যালের জন্য অপেক্ষমাণ আমরা সবাই দাঁড়িয়ে যার যার অবস্থানে ক্ষণ গণনা করছি হঠাৎ ট্রেনের হর্নের মতো একটা হর্ন বাজিয়ে দিলেন পাইলট

এটাই আমাদের জন্য সিগন্যাল লাইনের একদম সামনে দাঁড়িয়েথাকা প্যারাসুট জাম্প মাস্টার , প্রথম জাম্পারের কাঁধে চাপড় মেরে বললেন , “ গো” ! একে একে সিরিয়ালে চার নম্বরে থাকাআমি লাফিয়ে বাইরে গিয়ে পড়লাম ! বিমান সামনে এগোচ্ছে ঘন্টায় ৩৭০ কিমি গতিবেগে , এছাড়া আছে বাতাসের গতি ! এইদুইয়ের ধাক্কায় পলকেই একাধিক ডিগবাজী খেয়ে যখন স্থির হয়েছি , ঠিক তখুনি ঝাঁধে তীব্র ঝাঁকুনি অর্থাৎ পিঠে থাকাপ্যারাসুট খুলে গেছে এই ঝাঁকুনি এতই কড়া , ব্যথায় চোখে পানি চলে এলো ! আমি মুখে মাবলে শব্দ করে উঠতেই , পিঠেধাক্কা খেলাম আম্মার কণ্ঠবাবা , কি হইসে ? দুঃস্বপ্ন দেখসো ? উঠে বসো। আমি পানি নিয়ে আসতেসি ! ” আমি বাস্তবে ফিরেএলাম আফসোস হলো, কেন যে মা ঘুমটা ভেঙে দিলেন ! কি সুন্দর ফিরে গিয়েছিলাম ১৭ বছর আগের সেই ট্রেনিংয়ের সময়ে ! হ্যাঁ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি কমান্ডো ট্রেনিং ! যা আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে যে কোনো পরিস্থিতিতে দৃঢ় ভাবে বেঁচেথাকতে হবে , সকল বাধা উপেক্ষা করে আমি খন্দকার নাজীব হোসেন , ২০০২ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেকমিশন্ড অফিসার হিসেবে পাস আউট করি মিলিটারি একাডেমিতে আমাদের সম্মানিত অফিসার প্রশিক্ষকবৃন্দ আমাদেরএকাডেমির পারফরম্যান্স এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন বিভাগে ( পদাতিক , সাঁজোয়া , ইঞ্জিনিয়ার্স , সিগন্যালস ইত্যাদি ) নতুন কমিশন্ড অফিসারদের বণ্টন করে দিতেন সেই ভাবে সার্বিক বিবেচনায় আমাকে কোনঅব ইঞ্জিনিয়ার্স ‘ – দেয়া হলো। প্রথম পােস্টিং পাঁচ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়ান , কাপ্তাই তখন এই ইউনিট , তদানীন্তন ৬৫ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের অধীনে

জায়গাটার নাম তখন জীবতলী আর্মি ক্যাম্প ( এখন সেখানে মন্ত বড় জীবতলীক্যান্টনমেন্ট হয়েছে ) কাপ্তাই লেকের পাশে লেকভিউ অফিসার্স মেস মেস থেকে বের হলে আস্ত কাপ্তাই লেক চোখে পড়ে সেইসৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বহুদূরে রাঙ্গামাটি থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি , ধীরে ধীরে আমাদের আঙিনায় এসে , সেগুনগাছের উস পাতায় আছড়ে পড়ে ! রাস্তায় হাঁটার সময় পায়ের উপর দিয়ে খরগোশ  লাফ দেয় , গহীন রাতে বুনো শূকরের দল ঝাঁকবেঁধে বাগানের গাছের অবস্থা সংগীন করে ফেলে , সে এক মজার জগত ! আমাদের ইউনিটে জুনিয়র অফিসার অনেক আমারবন্ধু সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট তৌহিদ , তার এক কোর্স সিনিয়র লেফটেন্যান্ট মাহমুদ এবং তার সিনিয়র লেফটেন্যান্ট আফজাল

আমাদের আড্ডাবাজি খুব জমে থাকত অন্যান্য সিনিয়রদের মাঝে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জাফন এবং ক্যাপ্টেন মেজা আমরাএকটা পরিবারের মতো ! লেফটেন্যান্ট জাফর ( পরে পদোন্নতি লাভ করেন ) তখন ব্যাটালিয়নের কোয়ার্টার মাস্টার ব্যাটালিয়ানের কোয়ার্টার মাস্টারের দায়িত্ব হচ্ছে , গোটা ইউনিটের রেশন , মিলিটারি গাড়ি , জলযান ( কাপ্তাই লেকেঅপারেশনাল কাজে ব্যবহৃত ) এই সকল কিছুর হিসাবরক্ষণ এবং তদারকি করা আমি সবে ইউনিটে জয়েন করেছি আর্মিইউনিটগুলােতে একজন করে স্থায়ী টেইলন মাস্টার রাখার প্রচলন আছে তার কাজ হলাে , সকলের সামরিক ইউনিফর্মসেলাই করা তাে আমার নতুন ইউনিফর্ম সেলাই করার দায়িত্ব পড়ল সেই দর্জি মহাশয়ের উপ ভদ্রলােক কি করতে কিকরলেন , আমার ইউনিফর্মের সার্টের এক হাত ছােট , আরেক হাত বড় আমি তাে চিন্তিত

আমি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতেইতার জবাব , ‘ স্যার , এইটাই নিয়ম নতুন কমিশন পাওয়া অফিসারের ইউনিফর্মের শার্টের এক হাতা ছােট , আর এক হাতাবড় হয় ! ‘ আমি মেনে নিলাম এই অদ্ভুত 1 1 1 T নিয়ম দুইদিন বাদেই একটা কাজে কোয়ার্টার মাস্টার লে , জাফরের রুমেগিয়েছি স্যারকে স্যালুট দিতেই তিনি লক্ষ্য করলেন আমার শার্টের দুই হাতের দুই ধরনের দৈর্ঘ্য স্যার কৌতূহলবশতঃ কারণজানতে চাওয়া মাত্র আমি বললামস্যার , এইটাই নিয়ম নতুন অফিসারের ইউনিফর্মের শার্টের এক হাতা লম্বা , আর একহাতা ছােট হতে হয় ! “ জাফর স্যারের সিঅ্যাকশন হল ভয়াবহ তিনি কোনমতে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে জানতে চাইলেন , তথ্যটাকে দিয়েছে আমি নির্দ্বিধায় আমার শিক্ষাগুরুর নাম বলে দিলাম সেদিন শীতের সন্ধ্যায় , আমার গুরুকে কাপ্তাইয়ে ঠান্ডাজলে হংস শাবকের মতাে সাঁতার কাটতে দেখা গিয়েছিল সেকেন্ড লে . তৌহিদ আমার পুরনাে বন্ধু ব্যাটালিয়ানের জুনিয়ারঅফিসারদের মাঝে আমি , তৌহিদ এবং লে , মাহমুদের মাঝে চমৎকার হৃদ্যতা ! লে , আফজাল কাছাকাছি কোর্সের হলেও , আমাদের সাথে খানিকটা দূরত্ব বজায় রাখতেন সিনিয়ান টিমে লে , জাফন এবং ক্যাপ্টেন মেজা ! রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার্সব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার ( সিও ) তখন লে . কর্নেল খবির

পুরাতন দিনের অফিসার অসম্ভব রাগী মানুষ উনারআতঙ্কে গােটা ব্যাটালিয়ন তটস্থ হয়ে থাকে আর স্যাম রেগে গেলে সৈনিক অফিসার নির্বিশেষে অদ্ভুত অদ্ভুত শান্তি দেন ব্যাটালিয়ানে যােগদানের চতুর্থ দিনে , আমাকে সদ্য বানানাে ইউনিফর্ম পরিধান করিয়ে নিয়ে যাওয়া হলাে কমাজিঅফিসারের প্রথম ইন্টার্ভিউয়ের জন্য ! লে . কর্নেল খবির আমার একাডেমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারের সম্পর্কে খোঁজখবর নিলেন প্রথম ইন্টারভিউতে তাঁকে আমার খুব অমায়িক বলে মনে হচ্ছিল তাই বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলার এক ফাঁকেআমি সরল বিশ্বাসে বলে ফেললাম , “ স্যার , সামরিক অফিসার হিসেবে আমার প্রথম লক্ষ্য একজন প্যারা কমান্ডাে হওয়া

আমার আজও মনে আছে , আমার কথা শুনে লে . কর্নেল খবির তাঁর চশমার পুরু লেন্সের ভিতর দিয়ে , শীতল চোখে আমারপানে চেয়ে রইলেন আমি কেবল পুলকিত মনে চুপ করে গেলাম ভিতরে ভিতরে খুব খুশি এই ভেবে , নিশ্চয়ই স্যার আমারডিটারমিনেসনের প্রশংসা করবেন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button