OthersTips & Tricks-টিপস & ট্রিকস

বিসিএস প্রস্তুতি : শূন্য থেকে শুরু করার ১০+ কার্যকরী টিপস !!!

বাংলাদেশের  ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষা হল বিসিএসবাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা। এটিবাংলাদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষা। প্রতিবছর লাখো প্রার্থী আবেদন করেন।তাদের একটি ক্ষুদ্র অংশই তাদের বিসিএসউচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে ক্যাডার হওয়ার সুযোগ পায় মাত্র হাজার (প্রায়) অর্থাৎ, ১টি ক্যাডারের পদের বিপরীতে যুদ্ধকরেন ২৭৫ জনের বেশি প্রার্থী! কল্পনা করা যায় এটা ?

বিসিএস পরীক্ষায় এতো পরিমাণ প্রার্থী অংশ গ্রহণ করে যে,

পৃথিবীর নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ড, কেমব্রিজ, অক্সফোর্ড এর চেয়ে প্রতিযোগিতা বেশি হয় বাংলাদেশের বিসিএসপরীক্ষায়।

প্রতি বছর প্রার্থীদের সংখ্যাটা দিন দিন বাড়লেও ক্যাডারের সংখ্যা কিন্তু বাড়ছে না। তাই বুঝতেই পারছেন অধ্যবসায় আরনিয়মমাফিক বিসিএস প্রস্তুতি ছাড়া বিসিএস ক্যাডার হওয়া প্রায়ই অসম্ভব।

আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি বিসিএস পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালভাবে প্রস্তুত হওয়ার জন্য আপনারপ্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য পেতে পারেন এবং পাশাপাশি আপনার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন।

অনেকেই বলে যে, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে অনেক অনেক বই পড়তে হবে। কিন্তু শুধুবইপোকা হয়ে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া যাবে না।

বিসিএস পরীক্ষার প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায় হল ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা, যেখানে বিসিএস বোর্ড প্রার্থীর তার ব্যক্তিত্ব এবং কর্মসংস্থানেরক্যারিয়ারের উপযুক্ততার মূল্যায়নের জন্য সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। তাই এর জন্য একাডেমিক বোঝাপড়া ছাড়াও ব্যক্তির সার্বিকপরিপক্কতা প্রয়োজন।

আপনার লক্ষ্য যদি হয় একজন বিসিএস ক্যাডার হওয়া তাহলে

বিসিএস পরীক্ষার প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে আজ থেকেই কোনো  দ্বিধা ছাড়াই বিসিএস প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করুন। আপনারগুণমানস্তরকে কখনই সন্দেহ করবেন না। অবগত হন যে বিসিএস ক্যাডাররা এখন তাদের চাকরিতে আছেন তারা মোটেওঅতিমানব ছিলেন না।  তাদের অধিকাংশই ছিল মধ্যবিত্ত  এবং তাদের কোন সুপার একাডেমিক ফলাফল বা রেকর্ড ছিল না।

চলুন তাহলে বিসিএসএর জন্য কীভাবে পড়াশোনা করবেন তার 15 টি ম্যাজিকাল বিসিএস প্রস্তুতি টিপস নিয়ে আলোচনাকরার যাক:

১। নিজেকে প্রস্তুত করুন :

আপনার প্রস্তুতি শুরু করার আগে, পরীক্ষার জন্য মানসিক এবং শারীরিকভাবে প্রস্তুত করুন। প্রথমেই নিজের মাইন্ড সেট করেফেলুন বিসিএস অন্য যেকোন একটি পরীক্ষার মতই একটি পরীক্ষা। তবে এটি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিনপরীক্ষা। লক্ষ্যগুলি প্রতিষ্ঠা করুন এবং দক্ষতার সাথে সময় ব্যয় করুন। বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করতে পড়াশুনা করতে হবেনিয়মিত। শুধু বই কিনে জমা করলেই হবে না। সিরিয়াস হয়ে সেই বইগুলো প্রতিদিন পড়তে হবে।

২। বিসিএস প্রস্তুতির জন্য দিনে কত ঘন্টা পড়ব?

বিসিএস অফিসার হওয়ার জন্য, একটি সুসংগঠিত দৈনন্দিন রুটিন সহ একজন অফিসারের মতো হওয়া প্রয়োজন। আপনারপ্রস্তুতির আগে আপনার একটি আরামদায়ক সময়সূচী নির্ধারণ করা উচিত এবং এটি মেনে চলা উচিত। এটি আপনার কাজকেসহজতর করবে এবং এটিকে আরও সুশৃঙ্খল করে তুলবে। তবে মাথায় রাখবেন কোন ভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা কম করেবিসিএস এর পড়াশুনা করা যাবে না।

৩। সিলেবাস দেখে  নেয়াঃ

সিলেবাসকে যেকোনো পরীক্ষার প্রাণ বলা যেতে পারে। বই পড়ার আগে সিলেবাস জানা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সিলেবাসেরবাইরে সাধারনত তেমন কোনো প্রশ্ন আসে না। সিলেবাস দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি কোন বিষয়ে পারদর্শী আরকোন বিষয়ে দূর্বল। তাই আপনাকে বিসিএস সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সিলেবাস জানতে এবং অনুসরণ করতে হবে।  সিলেবাসজানা আপনাকে প্রাসঙ্গিক অধ্যয়ন উপকরণ চয়ন, বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিতে সাহায্য করবে।

৪। বিসিএসের জন্য সংবাদপত্র পড়া:

সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। বিসিএস পরীক্ষার সবচেয়ে বড়ো হাতিয়ার হচ্ছে সংবাদপত্র। আপনি যদি দৈনিক সংবাদপত্র নাপড়েন তাহলে আপনি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আশা করতে পারবেন না। কারণ বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলাদেশবিষয়াবলি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে প্রশ্ন আসে। এই বিষয়ের প্রশ্নগুলো সাধারনত পত্রিকা থেকেই করা হয়। তাইআপনি যদি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে চান আপনার দৈনিক সংবাদপত্রে প্রাসঙ্গিক খবরের সাথে লেগে থাকা অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ।

৪। এনসিটিবির বই পড়া:

বিসিএস প্রস্তুতির জন্য এনসিটিবির বইগুলো পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাইমারীর ক্লাস থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত এনসিটিবির বইগুলোবিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আগের বছরগুলোতে বিসিএস সরাসরি এনসিটিবিপাঠ্যপুস্তক থেকে প্রশ্ন করেছে। সুতরাং, আপনার বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করার জন্য নি:সন্দেহে এনসিটিবির বইগুলো সেরা বই।

৫। নোট তৈরি করা:

বিসিএস প্রস্তুতির সময় সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি করা সহায়ক। পৃথক বিষয়ের জন্য আপনার আলাদা ফাইল বা নোটবুক থাকতেপারে।

ডকুমেন্টগুলি অনেকের কাছে পছন্দ হয় কারণ এটি একটি বিষয়কে সহজভাবে নোট যোগ করতে সাহায্য করে। নিয়মিত পড়াশুনাকরলে প্রতিটি বিষয়ে খুব ভাল একটা প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব। পড়াশুনার সময় যে টপিক গুলো কঠিন লাগে সেগুলো খাতায় নোটকরে রাখলে ভাল হবে। সেগুলো কয়েক দিন পর পর রিভিশন দিলে মনে থাকবে।

৬। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সলভ করাঃ

বিসিএস এর ইতিহাসে প্রতিবারই পূর্বের প্রশ্ন থেকে কিছু প্রশ্ন রিপিট হয়। তাছাড়া পূর্বের প্রশ্নগুলো সলভ করলে বিসিএস পরীক্ষাসম্পর্কে বাস্তবিক অভিজ্ঞতা জানা যাবে।

৭। নিজ জেলা সম্পর্কে জানা:

বিসিএস ভাইভা বোর্ডের একটা কমন প্রশ্ন হচ্ছে নিজ জেলা থেকে প্রশ্ন করা। তাই আপনি যদি টিকে থাকতে চান নিজ জেলা, উপজেলা সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে রাখুন। উইকিপিডিয়ার মধ্যে আপনার  জেলা, উপজেলা সংক্রান্ত সব তথ্য পেয়ে যাবেন।

৮। বিসিএস প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় বই:

বিসিএস এর জন্য আপনি যতো বই পড়েননা কেন অসমাপ্ত আত্মজীবনী”, “লালনীল দীপাবলিএই বইগুলো আপনাকেপড়তেই হবে। কারণ এই বইগুলো থেকে সবসময় কোনো না কোনো প্রশ্ন থাকেই ভাইভা বোর্ডে এই রকমের বইগুলো থেকে প্রশ্নকরা হয়।

৯। উত্তর লেখার অভ্যাস তৈরি করা:

বিসিএস প্রধান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বর্ণনামূলক প্রকৃতির। এটি মূলত আপনার বিশ্লেষণাত্মক, সমালোচনামূলক এবং যোগাযোগেরদক্ষতা পরীক্ষা করার বিষয়ে। পর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া লেখার প্রশিক্ষণ ছাড়া এটি সম্ভব নয়। তাই আপনাকে উত্তর লেখার অভ্যাসকরতে হবে।

১০। পুনর্বিবেচনা:

আপনি বাংলাদেশের  ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন। তাই রিভিশন বেশগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেহেতু বিসিএস সিলেবাসটি বিস্তৃত এবং

বহুমুখী বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে প্রশ্ন করা হয় তাই ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই সময়মত পুনর্বিবেচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১১। ইতিবাচক থাকুন :

পুরো বিসিএস ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ইতিবাচক রাখা।এমন সময় আছে যখন এটি বেশ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতেপারে এবং আপনি হতাশ বোধ করবেন।আপনার মাথা থেকে নেতিবাচক চিন্তা দূর করুন এবং কাজ করুন।

হ্যাঁ বিসিএস খুব কঠিন তাতে কোনো সন্ধেহ নেই।কিন্তু অসম্ভব কিছু নয়। যদি প্রতিদিন বিসিএস পরীক্ষার জন্য পড়েন, তাহলেবিসিএস পরীক্ষায় আপনার দৌড় ১ম ১০০ জনের মধ্যেই থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button