কিভাবে পেপাল একাউন্ট তৈরী করবেন

আজকে আমরা আলোচনা করব কিভাবে পেপাল একাউন্ট তৈরী করবেন তা নিয়ে।

পেপাল হলো একটি ইন্টারন্যাশনাল অনলাইন ব্যাংকিং প্লাটফর্ম, এটি ব্যাবহার করে যেকোনো দেশের সাথে কারেন্সি আদান প্রদান করা যায়। যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের সাথে জড়িত তাদের একটি পেপাল একাউন্ট থাকার খুবই প্রয়োজন। কারন ফ্রিল্যান্সারদের হার্ড ওয়ার্কের পারিশ্রমিক পেপাল একাউন্টের মাধ্যমেই বেশী পরিশোধ করতে চায় ক্লায়েন্ট। একটি রেডিমেট পেপাল একাউন্ট ক্রয় করতে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার প্রয়োজন কিন্তু তারপরও একাউন্ট টিতে যে রিয়েল ইনফরশন দিয়ে খোলা হয়েছে তা কিভাবে বুঝবেন?

বোঝার কোনোই উপায় নাই তার মানে এসব একাউন্ট দিয়ে লেনদেন করা খুবই রিস্ক, যেকোনো সময়ে ক্লোজ হয়ে যেতে পারে। আমার পরামর্শ হলো টাকা ব্যায় করে পেপাল একাউন্ট না ক্রয় করে নিজেই একটু কষ্ট করে ক্রিয়েট করে নিন লিগ্যাল ইনফরমেশন দিয়ে। কিভাবে একটি পেপাল একাউন্ট তৈরী করবেন তা এ টু জেড বলে দেওয়া হয়েছে এ পোস্ট টিতে।

 

বিজনেস পেপাল একাউন্ট তৈরী করার নিয়ম
পেপাল একাউন্ট দুই ধরনের হয়ে থাকে ১. পারসোনাল একাউন্ট। ২. বিজনেস একাউন্ট। পারসোনাল একাউন্টের তুলনায় বিজনেস একাউন্টে অনেক বেশী ফিচারস পাওয়া যায় এবং অনেক বেশী সুবিধা ও পাওয়া যায় তাই আমরা পারসোনাল একাউন্ট না করে বিজনেস একাউন্ট ই তৈরী করবো। একটি পেপাল একাউন্ট তৈরী করা আহামরি শক্ত কাজ নয়।

আমার এই পোস্ট টি শুরু থেকে শেষ প্রযন্ত পড়ুন এবং একটি একাউন্ট যখন তৈরী করবেন তখন এই পোস্ট টিকে ব্রাউজারের একটি নতুন ট্যাবে বা উইন্ডোতে রেখে তারপর আরেকটি ট্যাবে এই পোস্ট টি দেখে দেখে খুব সহজেই কিন্তু একটি পেপাল একাউন্ট তৈরী করতে পারবেন।

ধাপ ১ঃ প্রথমে আপনি যেকোনো ১টি ইন্টারনেট ব্রাউজার ওপেন করুন যেমনঃ গুগল ক্রোম, মজিলা ফায়ারফক্স, ইউসিব্রাউজার, অপেরা মিনি ইত্যাদি কিন্তু একটু খেয়াল রাখবেন যে ব্রাউজারটি নিয়ে কাজটি করবেন সেটি যেনো একটু পাওয়ারফুল হয়। এরপর Google.com এ যান এবং create a PayPal account লিখে সার্চ করুন। প্রথমে যে রেজাল্ট টি দেখতে পাবেন তা হলো পেপাল ডটকমের সেটিতে ক্লিক করুন।

ধাপ ২ঃ এরপর আপনার সামনে নতুন একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। পেপাল একাউন্ট তৈরী করার ২ টি লিংক দেখতে পাবেন ১ম টি হলো পারসোনাল একাউন্ট তৈরির জন্য আর ২য় টি হলো বিজনেস একাউন্ট তৈরি করার। আমরা যেহুতু চাচ্ছি বিজনেস একাউন্ট তৈরী করতে তাই ২য় টিতে ক্লিক করুন।

এরপরে আপনাকে কিছু তথ্য দিতে হবে ধাপে ধাপে তা আমি ফরম ১ ফরম ২ দিয়ে বলে দিবো। তাই পোস্ট টি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, নিজে যখন খুলবেন তখন বিন্দু পরিমানেও সমস্যায় পড়বেননা আশাকরি।

ফরম ১ঃ Sign up for Business Account
আপনার এনআইডি কার্ডের সাথে হুবুহু মিল রেখে একটি জিমেইল একাউন্ট তৈরি করে নিবেন বা জিমেইল একাউন্টটির নামটি চেন্জ করে নিন। এরপরে সেই ইমেইল টি এখানে লিখে সাবমিট করুন।
সাবমিটে ক্লিক করার পরে আপনাকে একটি পাসওয়ার্ড সেট করতে বলবে, আপনি একটি শক্ত পাসওয়ার্ড দিবেন যেমনঃ Ridoy*)(?:#15 এইরকমের ১টি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এতে আপনার একাউন্টের নিরাপত্তা আরো শক্ত হবে।

 

ফরম ২ঃ Tell us about your business
এই ফরমটিতে আপনার বিজনেসের ডিটেলস দিতে হবে, ভয়ের কিছু নেই তেমন বেশী কিছুর প্রয়োজন হবেনা। প্রথম বক্সটিতে আপনার নামের প্রথম অংশ লিখুন এবং দ্বিতীয় বক্সে নামের পরের অংশটুকু লিখুন অবশ্যই এনআইডি কার্ডের সাথে হুবুহু মিল রেখে লিখবেন। একটু লক্ষ্যে করুন তাহলেই বিজনেস ডিটেলস দেওয়ার কয়েকটি বক্স দেখতে পাবেন।

আপনাকে বিজনেস নাম দিতে হবে মানে হলো আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম বসাবেন। আপনার যদি কোনো বিজনেস প্রতিষ্ঠান না ও থাকে তাহলেও সমস্যা নাই, আপনি জাস্ট একটি নাম লিখে তার শেষে LLC অথবা LTD লিখে দিবেন। বিজনেস নামের জায়গায় আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম অথবা আপনার ওয়েবসাইটের নামটিও দিতে পারেন বা ইচ্ছেমতো ও দিতে পারেন।

বিজনেস ফোন নাম্বারের বক্সে আপনার নিজের ফোন নম্বরটি দিবেন এইভাবে +8801700000000 অর্থাৎ ফোন নম্বরের আগে আমাদের কান্ট্রি কোডটি লিখতে হবে এরপরে ফোন নম্বর দিতে হবে। আমাদের বাংলাদেশী ফোন নম্বর দিলেও সমস্যা নাই।

এরপরে রয়েছে বিজনেস এড্রেস এখানে ২টি বক্সে আপনার এড্রেস দিতে হবে তা হলো এড্রেস ১ ও এড্রেস ২, আপনি যদি গ্রামে থাকেন তাহলে প্রথম বক্সে গ্রামের নাম লিখবেন আর দ্বিতীয় বক্সে আপনার গ্রামের পোস্ট অফিসের মানে ডাকঘরের নাম দিবেন এরপরে কমা দিয়ে আপনার এড়িয়ার থানার নাম দিবেন। এরপরে city বক্সে আপনার জেলার নামটি দিয়ে দিবেন। এর পরের অপশনে providence সিলেক্ট করে দিবেন। এরপরে পোস্টাল কোডে আপনার পোস্ট কোডটি দিয়ে দিবেন, পোস্ট কোড আপনি আপনার নিজের বা আপনার মা বাবার এনআইডি কার্ডের পিছনে দেখতে পাবেন।

ফরম ৩ঃ Describe your Business
এই ফর্মটি ভালোভাবে পূরন করবেন তাহলে আপনার একাউন্ট টি মজবুত হবে অনেক। প্রথম বক্সে individual সিলেক্ট করবেন। ২য় বক্সে Business service লিখবেন। ৩য় বক্সে আপনি ৫,০০০ কাড সিলেক্ট করতে পারেন। এরপরের বক্সে মানে ৪র্থ বক্সে আপনি আপনার বিজনেস কতো তারিখ থেকে শুরু করেছেন সেটি সিলেক্ট করে দিন এরপরে আপনার ওয়েবসাইট দিতে পারেন পরবর্তী বক্সে আর না চাইলে না দিবেন কোনো সমস্যা নাই। এরপরে সাবমিটে ক্লিক করবেন।

ফরম ৪ঃ Tell Us more about you
এই ফর্মটি ও একটু সতর্কতার সাথে পূরন করবেন এখানে যেনো কোনো ভূল না হয় তাহলে কিন্তু সমস্যা হবে। অকুপেশনে আপনি বিজনেস সিলেক্ট করবেন, হোম এড্রেসে আপনি আগে যে বিজনেস এড্রেস দিয়েছিলেন সেটি দিয়ে দিবেন এখানে। ডেট অফ বার্থে আপনার বার্থ ডেট টা দিয়ে দিবেন। অকুপেশনে বিজনেস দিবেন। হোম এড্রেসে টিক নিয়ে আগের মতো এড্রেস দিয়ে দিবেন এরপরে সিটিতে আপনার জেলার নাম লিখে দিবেন।

হয়ে গেলো একটি পেপাল একাউন্ট তৈরী করা, কিন্তু একাউন্ট টা ফেরিফাই করা হলো না। একাউন্ট টি ফেরিফাই করার জন্য একটি ব্যাংক একাউন্টের প্রয়োজন হবে, পেনিয়র বা ইসলামী বা যেকোনো ব্যাংক একাউন্ট কানেক্ট করে পেপাল একাউন্ট টির সাথে ভেরিফাই করতে পারেন। এবং পেপাল একাউন্ট টিতে নিজের রিয়েল ইনফরমেশন দিয়ে প্রোফাইল টা কমপ্লিট করুন এরপরে নিজ ফোন নম্বর ও ইমেইল ভেরিফাই করে নিতে হবে।

Leave a Comment