Biography

কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর জীবনী

হ্যালো বন্ধুরা, আজকে আমরা আলোচনা করব কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী নিয়ে (kazi nazrul islam jiboni bangla) নিয়ে আলোচনা করব।

বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাব উন্নত শির হিমাদ্রির মতে, বা উর্ধ্ব থেকে নিম্নে পতিত প্রবল শক্তিধর জলপ্রপাতের।মতাে। কারও কারও মতে, বাংলা সাহিত্যে তার উজ্জ্বল প্রবেশ যেন ধূমকেতু বা ঝঞার মতই। বাংলা কাব্যের শান্ত সরােবরে সমুদ্রের তরঙ্গসঞ্চারিত করেছেন তিনি। তাই বাঙালি পাঠকের কাছে তার প্রধান পরিচয় বিদ্রোহী কবি নজরুল।

কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী ভিডিও

কবি কাজী নজরুল ইসলাম এরজীবনী

বাংলাদেশের জাতীয় কবি নিয়ে জানুন:

  • পুরো নাম: কবি কাজী নজরুল ইসলাম
  • জন্ম:২৪ মে ১৮৯৯(১১ জৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ)
  • মৃত্যু:২৯ আগস্ট ১৯৭৬(১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ)(বয়স ৭৭)
  • পিতা: কাজী ফকির আহমদ
  • মাতা: জাহেদা খাতুন
  • জাতীয়তা: বাংলাদেশী

কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন

কাজী নজরুল ইসলাম ভারতের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে বাংলা ১৩০৬ সালের ১১ই জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালে) এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারেজন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফকির আহমদ ও মাতার নাম জাহেদা খাতুন। বাল্যকালেই নজরুল পিতৃহীন হন। ফলে তাঁকে আর্থিক কষ্টে পড়তে হয়। নজরুলের জীবনে তার কাকা বজলে করিমের প্রভাব অপরিসীম। তাঁর বাল্যশিক্ষা অসমাপ্ত থেকে যেত যদি না তিনি কাকার সহায়তা পেতেন।

পড়াশোনা: নজরুলের জীবন বিচিত্র কর্মবহুল, সদাচল, অভিনব এবং প্রতিভাদীপ্ত। অতি শৈশব থেকে তাঁর শিক্ষানুরাগের প্রকাশ এবং সেঅনুরাগকে সার্থক করার বাসনায় তাঁর দেশান্তর গমন। তার আগে ১০ বছর বয়সে তিনি তাদের গ্রামের মক্তব হতে নিম্ন প্রাথমিক পরীক্ষায় পাস করেন।

তারপর তিনি রাণীগঞ্জের নিকটবর্তী শিয়ারশােল রাজ স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু স্বাধীনচেতা নজরুলের স্কুলের নিয়মকানুন পছন্দ হলাে না। তিনি সেখান থেকে আসানসােলে পালিয়ে যান এবং এক রুটির দোকানে মাসিক পাঁচ টাকা বেতনে কাজ করতে থাকেন। এ সময়ে ময়মনসিংহ জেলার কাজী রফিজউদ্দিন আসানসােলে দারােগা ছিলেন। তিনি নজরুলের চোখেমুখে বুদ্ধির দীপ্তি দেখে তাঁকে স্বগ্রামে নিয়ে যান এবং কাজীর সিমলা গ্রামের হাইস্কুলে ভর্তি করে দেন।

সপ্তম শ্রেণিতে উঠে তিনি ভর্তি হন বর্ধমানের শিয়ারশােল রাজ বিদ্যালয়ে। এখানে ছাত্র হিসেবে তিনি বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেন। তাঁর শ্রেণিতে তিনিই শ্রেষ্ঠ ছাত্রের মর্যাদা লাভ করেন। বার্ষিক পরীক্ষায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য তিনি একেবারে সপ্তম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে ওঠেন। পরের বছর ম্যাট্রিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়ে তিনি প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষাও দেন। কিন্তু তার পরেইব্যক্তিগত কারণে শিক্ষাক্ষেত্র থেকে বিদায় গ্রহণ করেন এবং প্রথম মহাযুদ্ধে যােগ দেন।

বিচিত্র ও বহুমুখী জীবন যাপন করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর বয়স যখন মাত্র দশ বছর, তখন তিনি মক্তবে শিক্ষকতা করেছেন। তাতে বিশেষ সুবিধা না হওয়ায় এ বয়সেই তিনি গ্রাম্য লেটোর দলে যােগ দেন। লেটোর দলে যােগ দিয়ে তিনি অল্প বয়সেই গান ওনাটক লিখে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন।নজরুল বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ ছাত্র হয়েও সেখানকার প্রতিভাদীপ্ত ও উজ্জ্বল সম্ভাবনামুখর জীবনকে ছিন্নপত্রের মতাে উড়িয়ে দিয়ে চলে গেছেন মৃত্যু সমাকীর্ণ রণক্ষেত্রে। যুদ্ধে তিনি সাধারণ সৈনিক (হাবিলদার) হয়ে যােগদান করেন। করাচিতে হেড কোয়াটার্সে তার তিন বছর কাটে। যুদ্ধশেষে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন এবং ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটে ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুজাফফর আহমেদের সঙ্গে একত্রে বাস করতে থাকেন।

সাম্যবাদী চিন্তার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ অনুপ্রেরণা সঞ্চার করেন। তাঁর সাম্যবাদী চিন্তা সর্বতােভাবে জীবনমুখী এবং উচ্ছাসবহূল। প্রগতিশীল কিছু পত্রিকার সঙ্গেও তিনি যুক্ত হন। যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর নজরুল প্রমীলা দেবীকে বিয়ে করেন। কিন্তু ঘরের মােহ তার সদাচল জঙ্গম জীবনকে কোনােভাবেই রুদ্ধ করতে পারে নি। আশ্চর্য জীবনীশক্তি ও উদ্বেল যৌবন উচ্ছাস নিয়ে তিনি বিদ্রোহীর মতােই জীবন যাপন করেছেন। ধূমকেতুর মততা নজরুল প্রবল আবেগে স্বরচিত গান গাইতে গাইতে বন্ধুদের সভায় হঠাৎ আবির্ভূত হতেন। সারা দেশকে যৌবনশক্তির বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে তিনি ঘুরে বেড়াতেন।

বিশ শতকের তৃতীয় দশক থেকে বিদ্রোহাত্মক কবিতা নিয়ে নজরুলের বাংলা সাহিত্যে দীপ্ত আবির্ভাব। কবির বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ‘মােসলেম ভারত’ নামক সাময়িক পত্রে প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলা সাহিত্যে সাড়া পড়ে যায়। সচেতন পাঠক অনুভব করেন,বাংলা সাহিত্যে একজন অভিনব ও অমিত শক্তিধর কবির আবির্ভাব হয়েছে। এই কবির কবিতায় ও গানে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বিকীর্ণকারী বিদ্রোহ চেতনা, চিরাচরিতের শাসন নাশন বিপ্লবের আহ্বান। এর ফলে বাংলাদেশের পাঠক সাধারণের কাছে তিনি হলেন ‘বিদ্রোহী কবি’। সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজের নিষ্ঠুরতা ও অত্যাচার তার কবিতাকে করে তুললাে বিদ্রোহাত্মক, ভাষাকে বীর্যবান এবং প্রকাশভঙ্গিকে দীপ্ত। কবি তাঁর কবিতায় শুধু বিদেশি শক্তিকেই আঘাত করলেন না, নিজের দেশের অসাম্য এবং দুর্বলের প্রতি প্রবলের অত্যাচার ও অন্যায় আচরণকেও করলেন
সমালােচনাবিদ্ধ। এসবের ফলে ইংরেজের কারাগারেও তাকে কিছুকাল কাটাতে হয়েছিল।

কবির এই বিদ্রোহ চেতনাকে ধারণ করে রচিত। হয়েছে তার ‘অগ্নিবীণা’, ‘বিষের বাঁশী’, ‘শিকল ভাঙার গান”, ‘প্রলয় শিখা প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ। একমাত্র নজরুলই নির্ভয়ে বলতে পেরেছেন।

কাজী নজরুল ইসলাম এর উক্তি- 

কাজী নজরুল ইসলাম কবিতা ও বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি:

—“কারার ঐ লৌহ কপাট/ ভেঙ্গে ফেল কররে লােপাট লাথি মার ভাঙরে তালা/ যত সব বন্দীশালায়/ আগুন জ্বালা।”

বিদ্রোহী মনােভাবের বাইরে নজরুলের প্রেম ও প্রকৃতিনির্ভর কবিতা ও গানের সংখ্যা কম নয়। তার প্রেম ও প্রকৃতি বিষয়ক কবিতার সর্বাঙ্গ ব্যাপ্ত করে যে আবেগ, অনুভব ও হিল্লোল বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রোত্তর যুগে তার সমধর্মী কবিতা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাছাড়া তাঁর ভক্তি সংগীতও কম নয়। কবির বিদ্রোহ চেতনার সঙ্গে প্রেম, প্রকৃতি চিন্তা ও ভক্তির সম্মিলন তাঁর কবিমানসকে সম্পূর্ণতা দিয়েছে। কবির উপযুক্ত বিশিষ্টতাগুলাে প্রকাশিত হয়েছে তার ‘দোলন চাঁপা’, ‘ছায়ানট’, ‘চক্রবাক’ প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থে ও শ্যামাসংগীত সংকলনে। কবি শিশু কিশােরদেরও অবহেলা করেন নি। পরম ভালােবাসায় তাদের জন্য রচনা করেছেন ‘ঝিঙে ফুল’, কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলাে।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ সমূহ: 

কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রোত্তর কালের শ্রেষ্ঠ কবি, শ্রেষ্ঠ সুরকার ও সংগীত রচয়িতা। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলাের মধ্যে সাম্যবাদী,সর্বহারা, সিন্ধু হিন্দোল, বুলবুল, চোখের চাতক, গীতি শতদল, পুবের হাওয়া, নতুন চাদ, রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ, রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম, বাঁধন হারা,
ফণিমনসা, ব্যথার দান, রিক্তের বেদন, মৃত্যুক্ষুধা, কুহেলিকা, যুগবাণী, রাজবন্দীর জবানবন্দী, রুদ্রমঙ্গল, দুর্দিনের যাত্রী, ধূমকেতু প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অসাম্প্রদায়িক কবি। রবীন্দ্রনাথ ছাড়া এত বড় অসাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক মিলনের কবি বাংলা সাহিত্যে আর কেউ আছেন কি না সন্দেহ। তাঁর কবিতা ও সংগীত হিন্দু মুসলমান সংস্কৃতির মিলনাত্মক ঐক্যবদ্ধ ভারতের এমন এক নিবিড় উপলব্ধি সঞ্চার করে দেয়, যার তুল্য ভিন্নতর দৃষ্টান্ত বাংলা সাহিত্যে দুর্লভ। সাহিত্য সমালােচক আজহার উদ্দীন যথার্থই বলেছেন, “একদিকে হিন্দু সংস্কৃতির মনীষা, ত্যাগ ও তপস্যা, অপরদিকে মুসলিম সংস্কৃতির দুর্বার তেজ ও দুরন্ত সাহসের অপূর্ব মিশ্রণে যে দিব্যমানবত্বের সৃষ্টি হয়, কবি নজরুলের সাহিত্য সেই রসাদর্শের সাহিত্য।”

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নজরুলের গান ও কবিতা বিপুল অনুপ্রেরণা যােগায়। ১৯৭২ সালে কবিকে
ঢাকায় এনে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন দুরারােগ্য রােগ ভােগের পর এই মহান কবি ১৯৭৬ সালে ইন্তেকাল করেন। তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে সামরিক ও জাতীয় মর্যাদায় সমাধিস্থ করা হয়।

কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা একদা বাংলা সাহিত্যে যে প্রবল উন্মাদনা ও প্রচণ্ড বিস্ফোরণ সৃষ্টি করেছিল, তার সম্পূর্ণ অবসান
আজও হয় নি। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে বসন্তের অগ্রদূত’ বলে অভ্যর্থনা করেছিলেন। একথাও অসত্য নয়, নজরুলের কবিতার কঠোর প্রকাশভঙ্গি অনেক সময় তার বিশিষ্টতাকে ক্ষুন্ন করেছে। আবার একথাও অনস্বীকার্য যে, তাঁর কবিচেতনার আন্তরিকতা ও উচ্চনিনাদী আঙ্গিক তার কবিতাকে সূর্ত প্রাণাবেগে পূর্ণ করেছে।

বন্ধুরা পরবর্তীতে আপনারা আর কার কার জীবনী নিয়ে জানতে চান আমাদের জানাতে ভুলবেন না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button