Travel Guide

করোনায় প্রথমবার যারা USA আসবেন যেসব বিষয় জানা জরুরি

আমার মত প্রথমবার যারা বিদেশ যাচ্ছেন অনেকেই কিছু কিছু বিষয়ে নানান কনফিউশনে ভোগবেন। যে বিষয়গুলো নিয়ে আমি অনেককে জিজ্ঞেস করেছি, এবং যাত্রাপথে অভিজ্ঞতা থেকে পেয়েছি, এমন কিছু বিষয় শেয়ার করব। আশা করি অনেকের উপকার হতে পারে। তথ্য সংক্রান্ত ভূল থাকলে কমেন্টে বলবেন যাতে অন্যদের উপকারে আসে।
১) করোনা-টেস্ট কি ২৪ ঘন্টার ভেতরে দিতে হয় নাকি আগের দিন দিলেই চলবে?
উত্তর: CDC এর ওয়েবসাইটে ১ ক্যালেন্ডার ডে এর ভেতর দিতে বলা হয়েছে। আমার ফ্রেন্ড ৩ তারিখ দিনের বেলা সেম্পল দিয়েছে, আর তার ফ্লাইট ছিল ৪ তারিখ সন্ধা ৬.২০ মিনিটে। সে শিকাগোতে এসেছে, সমস্যা হয় নি।
২) খুব দ্রুত রিপোর্ট কোথায় মিলবে সেম্পল দেওয়ার পর?
উত্তর: ঢাকায় অনেক প্রতিষ্টানে দ্রুত রিপোর্ট দেয়। আমি Prescription Point, Badda থেকে করিয়েছি। সকাল ৭ টায় সেম্পল দিয়েছি। ঐদিনই দুপুর ২ টার আগেই sms পেয়েছি। অনেক সময় sms আসতে দেরি হয়, কিন্তু ওয়েবসাইটে করোনা রিপোর্ট চলে আসে।
৩) করোনা ভ্যাক্সিন দেওয়ার কতদিন পর ট্রাভেল করা যাবে?
উত্তর: আমি যতটুকু জানি ভ্যাক্সিন ডোজ শেষ হবার ১৪ দিন পর ট্রাভেল করতে পারবেন।
৪) দুবাই ট্রানজিট থাকলে কি ৬ ঘন্টার ভেতর এয়ারপোর্টে আবার র্যাপিড টেস্ট করা লাগে?
উত্তর: অনেকের কাছে শুনেছিলাম দুবাই হয়ে আসলে এয়ারপোর্টের ভেতর আবার র্যাপিড টেস্ট লাগে। আমার ট্রানজিট ছিল দুবাই (Emirates airline), আলাদা কোন টেস্ট লাগেনি। দুবাইতে নামার পরও লাগেনি। যতদূর শুনেছি, দুবাই যদি Destination হয় তখন লাগে।
৫) প্লেনের টিকেট কি নিজে নিজে কাটা যায়?
উত্তর: অবশ্যই, ডুয়াল কারেন্সি কার্ড দিয়ে।
৬) ক্রেডিট কার্ড নাই, কি দিয়ে কি করা যায়?
উত্তর: ডুয়াল কারেন্সি প্রিপেইড কার্ড সহজে ম্যানেজ করা যায়। EBL card আছে, Midland Bank card আছে যা দিয়ে pay করা যায়। আমি Midland Prepaid visa কার্ড দিয়ে বিমান টিকেট বুক করেছি। ৩০০ ডলারের বেশি হলে ব্যাংকের কাছে ইমেইল করবেন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যেমন i-20, offer letter, বিমান ভাড়া কত সেটার স্ক্রিন শট। তারপর ওরা লিমিট বাড়িয়ে দিবে ১-২ দিনের জন্য। তখন করতে পারবেন।
৭) বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনে কি ঝামেলা করে?
উত্তর: কাউকে প্রশ্ন বেশি করে, কাউকে তেমন করে না। আমাকে বার বার NOC দেখানোর কথা বলেছে। আজাইরা প্যাঁচাল করেছিল।
৮) বিদেশ ইমিগ্রেশনে কি ঝামেলা করে?
উত্তর: বাংলাদেশের চেয়ে সেখানটায় বেশি ফ্রেন্ডলি মনে হয়েছে। আপনার ভার্সিটির ডর্ম/ যেখানে থাকবেন সেটার ঠিকানা জানতে চাইবে, এটা আগেই লিখে রাখবেন কাগজে বা মোবাইলে। কত ডলার সাথে আছে জানতে চেয়েছিল।
৯) আমার ভার্সিটি এক State এ, আমি যদি অন্য State হয়ে যাই সমস্যা হবে?
উত্তর: আমাদের সমস্যা হয়নি। New York এ আমরা নেমেছিলাম, সেখানে ২ দিন আত্মীয়দের সাথে দেখা করে পরে Texas এ আসি। নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাসের দূরত্ব অনেক। তবে ইমিগ্রেশনে যদি জিজ্ঞেস করে কেন এখানে আসছেন সেটার উত্তর আগে থেকে রেডি করে রাখা উচিত।
১০) আমি বিবাহিত, কিন্তু পাসপোর্টে Spouse name খালি রাখা। সমস্যা হবে?
উত্তর: আমার ক্ষেত্রে এটা নিয়ে কোন ঝামেলা হয়নি।
১১) আমেরিকার এক state এ নামব, কয়েকদিন পর অন্য state এ যাব। লাগেজ নিয়ে কোন এয়ারলাইন্স এ গেলে ভাল?
উত্তর: Southwest airlines এ নির্দিষ্ট ওজন ও সাইজের ২ টা লাগেজ ফ্রি তে নিতে পারবেন। অন্য airlines এ আছে কিনা জানি না। Domestic ফ্লাইটে অনেক এয়ারলাইন্স এ লাগেজের জন্য ফি দিতে হয়। সেটা দেখে নিবেন আগে। আমরা ২ জন ৪ টা লাগেজ নিয়ে নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাসে এসেছি লাগেজ ফি ছাড়াই।
১২) দেশ থেকে কি নতুন মোবাইল কিনে আনব?
উত্তর: এখানকার অনেক সিম আপনার মোবাইলে সাপোর্ট নাও করতে পারে। আমার Samsung মোবাইল ২০২০ সালের, UAE থেকে কিনা। কিন্তু এখানে এসে সিম সাপোর্ট করেনি, তাই কম দামের একটা কিনতে হয়েছে

আপাতত চলার জন্য।

১৩) হুয়াওয়ে মোবাইল কি এয়ারপোর্টে কাজ করে?
উত্তরঃ আমাদের সাথে ১ টা হুয়াওয়ে মোবাইল ছিল। ঢাকা, দুবাই, নিউইয়র্ক এয়ারপোর্টের wifi তে কাজ করেছিল। সবার ক্ষেত্রে করবে কি না জানি না।
১৪) এয়ারপোর্ট থেকে সবার সাথে কিভাবে যোগাযোগ করব?
উত্তর: সব এয়ারপোর্টেই wifi পাবেন, যোগাযোগ করতে পারবেন। দুবাইয়ে Whatsapp থেকে সম্ভবত কল দেওয়া যায় না, তবে টেক্সট করা যায়। BOTIM App দুবাইয়ে Allowed for calling.
১৫) ডলার কি এন্ডোর্স্মেন্ট করে আনব?
উত্তর: করে আনা নিরাপদ। সোনালি ব্যাংকে করে। আবার সরকার নির্ধারিত মানি এক্সচেঞ্জগুলো করে থাকে (যাদের লিমিট ১০০০ ডলার পর্যন্ত)। মানি এক্সচেঞ্জ থেকে করলে Transaction id দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে চেক করে নিতে পারেন ঠিক আছে কিনা।
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
১৬) Airlines App:
যে এয়ারলাইন্সে আসবেন তাদের Mobile App ডাউনলোড করে রাখবেন। আমি ট্রাভেল এজেন্সি দিয়ে টিকেট বুক করেছিলাম। আমার ফ্লাইট টাইম ৪০ মিনিট চেঞ্জ (আগে) হয়েছিল যেটা ট্রাভেল এজেন্সি আমাকে জানায় নি। তবে আমার কাছে এয়ারলাইনের এপ ছিল যেখানে ইমেইল দিয়ে রেখেছিলাম। যার ফলে ফ্লাইট টাইম চেঞ্জ হলেও সেটা ইমেইলে আপডেট করে। তাছাড়া কানেকটিং ফ্লাইটের টার্মিনাল ও গেট চেঞ্জ করলে সেটাও App এ আসে।

১৭) Transit Flight প্রসঙ্গ:
দুবাই/দোহা/ইস্তাম্বুল যেখানেই ট্রানজিট হোক এয়ারপোর্ট অনেক বড় পাবেন। এয়ারপোর্টে পোশাকদারি দায়িত্বরত যারা আছেন তাদের জিজ্ঞেস করতে পারেন কোন গেট কোন পাশে।
আমার ছিল দুবাইয়ে ট্রানজিট, যেটা অনেক বিশাল এয়ারপোর্ট। প্রথমত আপনার টিকেটের ফ্লাইট নাম্বার দেখে সেটা কোন গেটে আছে জানতে পারবেন এয়ারপোর্টে টিভি/স্ক্রিনে। তারপর যে কাউকে জিজ্ঞেস করে নিবেন ঐ গেট কোন দিকে। দুবাই এয়ারপোর্টে নেমে আমাদের একটা গেট থেকে অন্য গেটে যেতে হয়েছে মেট্রো রেলে (ফ্রি) কারণ এটা অনেক বড় এয়ারপোর্ট। ট্রানজিটে আপনাকে লাগেজ নিয়ে কিছু করতে হবে না, এক বিমান থেকে অন্য বিমানে তারাই লাগেজ স্থানান্তর করবে।
(বিমানে বসে এগুলো টাইপিং করছি, আর এখানে এসে কিছু এড করেছি। স্মরণ হলে আরো তথ্য এড করব)
সবার যাত্রা শুভ হোক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button